গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে আউটসোর্সিং নিয়ে সকলের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যথেষ্ঠ পরিমাণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসময় আউটসোর্সিং নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, পত্রিকায় লেখালেখি ইত্যাদি ছিল চোখে পড়ার মত বিষয়। বেকার সমস্যায় জর্জরিত আমাদের দেশের জন্য আউটসোর্সিং নিঃসন্দেহে একটি সুফলবার্তা বয়ে এনেছে। পড়ালেখার পাশাপাশি বা পড়ালেখা শেষ করে অনেকেই অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। কিন্তু ফ্রিল্যান্সার হতে গিয়ে সবাই প্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য করে তা হচ্ছে বাংলাদেশে অর্থ নিয়ে আসতে জটিলতা। অর্থ উত্তোলনের নানাবিধ পদ্ধতি রয়েছে যার কোন কোনটি ঝামেলাবিহীণ কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আবার কোন কোনটি অল্প খরচে করা যায় কিন্তু এগুলোর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে নানাবিধ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো বিষয়টি যথাযথ উপলব্ধি করতে না পারায় তাদের কাছ থেকে আশানূরূপ সাড়া পাওয়া যায় না। সবকিছু ছাপিয়ে প্রধান যে বাধাটি শুরু থেকেই প্রত্যেকটি ফ্রিল্যান্সারকে ভোগান্তিতে ফেলেছে তা হচ্ছে, ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের জন্য সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি - পেপাল (Paypal) এর সার্ভিস বাংলাদেশে না থাকার জন্য। বাস্তবিক পক্ষে বাংলাদেশে পরিপূর্ণভাবে ইকমার্স শুরু না হওয়ার পেছনে এটি হচ্ছে প্রধান কারণ। একজন ফ্রিল্যান্সার ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আউটসোর্সিং এর কাজগুলো করতে গিয়ে গত ৩ বছর আমি এই সমস্যাগুলো খুবই কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি। আমার এই সব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে এবারের প্রতিবেদনটি সাজানো হল।
শুরুতেই দেখে নেয়া যাক, আউটসোর্সিং কাজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশে নিয়ে আসতে বর্তমানে কি কি পদ্ধতি রয়েছে এবং এগুলোর সমস্যাগুলো কি কি।ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন:
কিছু কিছু ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে যাতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা যায়, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেwww.RentACoder.com। এটি অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুত একটি পদ্ধতি। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার প্রথম দিকে আমি এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতাম। সেসময় আমাকে একটি ব্যাংক ফিরিয়ে দিয়ে জানালো ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশী কোন ব্যাক্তিকে অর্থ পাঠাতে পারে না। পরবর্তীতে অন্য আরেকটি ব্যাংক থেকে আমি অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু বছরখানেক পর রেন্ট-এ-কোডার বাংলাদেশীদের জন্য ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। ওয়েবসাইটটি থেকে পরে জানতে পারলাম বাংলাদেশ সরকার এই পদ্ধতিতে অর্থাৎ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোয় অনুমতি প্রদান করে না।চেকের মাধ্যমে:
এই পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলনে ফ্রিল্যান্সারদেরকে যথেষ্ঠ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোন কোন ওয়েবসাইট থেকে এই পদ্ধতি ছাড়া অর্থ উত্তোলনের অন্য কোন উপায় নেয়। উদাহরণসরূপ, গুগল এডসেন্স থেকে আয়ের টাকা উত্তোলনের একমাত্র উপায় হচ্ছে চেকের মাধ্যমে। এই পদ্ধতির প্রধান সমস্যা হচ্ছে চিঠি পেতে মাসখানেক সময় লেগে যায়। তারপর সেই চেক ব্যাংকে নিজের একাউন্টে জমা দেবার পর টাকা জমা হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তার উপর ১০০ ডলারের একটি চেকে ব্যাংককে ২৫ ডলার মত ফি দিতে হয়।ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ওয়্যার ট্রান্সফার:
এই পদ্ধতিটিতে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে অর্থ সরাসরি ব্যাংকে জমা হয়ে যায়। এটি ঝামেলাবিহীন এবং নিরাপদ একটি পদ্ধতি। কিন্তু এই পদ্ধতিতে খরচ পড়ে অনেক বেশি, প্রায় ৪৫ ডলারের মত। এই পদ্ধতিটি আউটসোর্সিং সাইটগুলোতে খুব একটা জনপ্রিয় নয়।পেওনার ডেবিট মাস্টারকার্ড:
ইদানিংকালে প্রায় সকল আউটসোর্সিং সাইটগুলো এই মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের কাছেও এটি বেশ জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে ফ্রিল্যান্সারদের ঠিকানায় একটি মাস্টারকার্ড পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারপর মাস শেষে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে কার্ডে অর্থ জমা হয়ে যায়, যা আমাদের দেশের কয়েকটি ব্যাংকের ATM থেকে যেকোন সময় টাকা তোলা যায়। প্রতিবার টাকা উত্তোলন করতে ২ ডলারসহ উত্তোলনকৃত অর্থের ৩% ফি দিতে হয়। আবার এই কার্ড দিয়ে অনলাইনে ডোমেইন, সার্ভার স্পেস বা যেকোন ধরনের পণ্য কেনাকাটাও করা সম্ভব। তবে অনলাইনে এভাবে কেনাকাটা করাটা ভাইরাস এবং স্পাইওয়ারের কারনে বেশ ঝুকিপূর্ণ। যে কোন সময় কার্ড হ্যাক হয়ে সর্বস্ব হারানোর আশংকা থাকে।মানিবুকারস:
মানিবুকারস হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক অর্থ লেনদেনের একটি নিরাপদ, ঝামেলাবিহীন এবং স্বাশ্রয়ী একটি মাধ্যম। মাত্র ৩ ডলার ফি দিয়ে বাংলাদেশে যে কোন ব্যাংকে টাকা নিয়ে আসা যায়। এটিকে অনেক সময় পেপালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি পেপালের মত অতটা জনপ্রিয় নয় এবং সকল ফ্রিল্যান্সিং সাইট এটি সাপোর্ট করে না। এর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, কোন মার্কিন নাগরিক মানিবুকারসে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারে না। ফলে এই পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্র্য থেকে আয় করা সম্ভব নয়।পেপাল:
উপরে উল্লেখিত পদ্ধতির বাইরে আরও কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে, যাদের প্রত্যেকটিতে কম বেশি অসুবিধা রয়েছে। কিন্তু সবগুলো পদ্ধতির মধ্যে ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের সবচেয়ে জনপ্রিয়, নিরাপদ এবং সহজ পদ্ধতিটি হল পেপাল (Paypal)। বিশ্বের ১৯০ টি দেশে ১৮ ধরনের মূদ্রায় পেপালের সার্ভিস রয়েছে। ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করাটা নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন ভাইরাস এবং স্পাইওয়্যারের সৃষ্টি হচ্ছে যা ব্যবহারকারীর অগোচরে তার কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকে এবং ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের তথ্য টাইপ করার সাথে সাথে তা পাচার করে দেয়। অনেক সময় যে ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনা হচ্ছে তারা ইচ্ছে করলে ক্রেতার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে সকল টাকা নিয়ে যেতে পারে। ফলে পেপালের আগমনের পূর্বে ইকমার্স অতটা জনপ্রিয় ছিল না। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেপাল অনলাইনে অর্থ লেনদেনের ধারনাটাকেই পাল্টে ফেলে। অনলাইনে নিলাম করার জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ই-বে (www.eBay.com) ২০০২ সালে পেপালকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়।
ইকমার্স এর জন্য পরিপূর্ণ সমাধান হচ্ছে পেপাল, যা অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারকারীর ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ও ব্যাংকের তথ্য পেপালে সংরক্ষিত থাকে, যা ইন্টারনেটে কেনাকাটা করার সময় অন্য কেউ জানতে পারবে না। একজন পেপাল ব্যবহারকারী আরেকজন পেপাল ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিনিটের মধ্যেই অর্থ প্রদান করতে পারে। পেপালের বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটি ব্যবহার করে অর্থ অর্থ জালিয়াতি প্রায় অসম্ভব। একারণে পেপাল সারা বিশ্বে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সার্ভিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন কোন ইকমার্স অথবা আউটসোর্সিং সাইট পাওয়া যাবে না যা পেপাল সমর্থন করে না।পেপাল না থাকার কুফল:
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হল বাংলাদেশে পেপালের কোন সার্ভিস নেই। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশী নাগরিক পেপালে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে না। পেপাল না থাকার কারণে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা যে সকল অসুবিধায় পড়ছে সেগুলো হল -
১) যে কোন আউটসোর্সিং সাইট থেকে আয় করতে না পারা। এমন অসংখ্য সাইট রয়েছে যারা কেবলমাত্র পেপালের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে থাকে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি সাইটে ফ্রিল্যান্সিং এ আমাদেরকে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।
২) অন্যান্য সার্ভিস ব্যবহার করে উচ্চমূল্যে অর্থ উত্তোলন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ওয়্যার ট্রান্সফার একটি চমৎকার পদ্ধতি। কিন্ত এই পদ্ধতিতে প্রতিবার উত্তোলনে ৪৫ ডলার খরচ পড়ে। আর পেওনার ডেবিট মাস্টারকার্ড মোট অর্থের ৩% কেটে রাখে, যা বড় অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে মোটেও ভাল পদ্ধতি নয়।
৩) অন্যান্য সার্ভিসের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ গ্রহণ করা যায় না। ফলে সবসময় একটি আউটসোর্সিং সাইটের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় এবং তাদেরকে ১০% থেকে ১৫% ফি দিতে হয়। গত তিন বছরে আমি বিভিন্ন দেশের অসংখ্য ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ পেয়েছি। আমার এমন কয়েকজন ক্লায়েন্ট রয়েছে যারা প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে প্রতি মাসে কাজ দিচ্ছে। তারা এতটাই বিশ্বস্থ যে কাজ শেষে অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ছাড়াই আমি কাজ শুরু করে দিতে পারি। আবার অনেক সময় কাজ শুরুর পূর্বেই প্রজেক্টের পুরো বা আংশিক টাকা পেয়ে যাই। মোট কথা হচ্ছে এক্ষেত্রে মধ্যবর্তী আউটসোর্সিং সাইটের সাথে আমার কোন লেনদেন নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ওইসব সাইটগুলোকে ১০% ফি দিয়ে অনেক পথ ঘুরিয়ে আমাকে অর্থ গ্রহণ করতে হয়। এভাবে প্রতি ১০০০ ডলারে ১০০ ডলার আউটসোর্সিং সাইটকে দিতে হচ্ছে। সাথে আরো ৩০ থেকে ৫৫ ডলার দিতে হচ্ছে পেওনার বা ব্যাংক ট্রান্সফারের জন্য। কিন্ত আমার যদি একটি পেপাল একাউন্ট থাকত তাহলে হাজার প্রতি এই অতিরিক্ত ১৩০ থেকে ১৫৫ ডলার দেশে নিয়ে আসতে পারতাম।
৪) পেপাল না থাকা ইকমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা করার প্রথম ও প্রধান অন্তরায়। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে এখন সবাই ইমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবসার করার দিকে ঝোঁকে পড়ছে। আর এই পেপালের কল্যাণে আজ ইকমার্স এতটা জনপ্রিয় এবং লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কেবলমাত্র পেপাল থাকলেই যে কত ধরনের ইকমার্স ব্যবসা করা সম্ভব তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। উদাহরণসরূপ, পেপাল থাকলে ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিং সাইটগুলোতে নতুন প্রজেক্টের জন্য বসে না থেকে নিজের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সফটওয়্যারগুলো বিক্রি করতে পারত। অন্যান্য রপ্তানি ক্ষেত্রে এই পেপাল আমাদের দেশের জন্য হতে পারত যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। কিন্তু আমরা সেই পোশাককে মধ্যসত্ত্বভোগী ছাড়া সরাসরি বিদেশী কোন ভোক্তার হাতে পৌছে দিতে পারি না। অথচ পেপাল থাকলে এরকম অসংখ্য ধরনের পণ্য রপ্তানি করে ঘরে বসেই প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মূদ্রা আয় করা যেত।
৫) পেপাল না থাকার ফলে অনেকে আবার ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। ইন্টারনেটে এমন অনেক ফোরাম রয়েছে যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে পেপালের সার্ভিস পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে পেপাল একাউন্ট আছে এমন কোন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে সে তার পেপাল একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পেতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে সে ব্যাংক ট্রান্সফার বা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিটি মোটেও নিরাপদ এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশে পেপালের সার্ভিস না থাকার ব্যাপারে পেপালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, পেপাল সবসময় তার সার্ভিস বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারণে ইচ্ছুক। একটি নতুন দেশে সার্ভিস দিতে সে দেশের বিভিন্ন আইনকানুন মেনে তাদেরকে একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে যেতে হয়। আরও নতুন দেশে পেপালকে পৌছে দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পেপালের সার্ভিস পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে তারা কোন নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারছে না।
প্রকৃতপক্ষে পেপাল কবে বাংলাদেশে সার্ভিস প্রদান করবে সে অপেক্ষায় বসে না থেকে আমাদের নিজেদেরকেই উচিত তার আগমনের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দেয়া। আশার কথা হচ্ছে বর্তমান সরকার বাংলাদেশে ইকমার্স চালুর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষন করছেন। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে পেপালের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা এবং যেসব আইনের কারণে পেপাল এদেশে তাদের সার্ভিস এদেশে নিয়ে আসতে পারছে না, প্রয়োজনবোধে তা পরিবর্তন বা সংশোধন করা। বাংলাদেশের তরুনরা আজ এতটাই স্মার্ট যে, শুধুমাত্র এই সমস্যাটির সমাধান করতে পারলে নিজেরাই বাংলাদেশে ইকমার্সের বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারবে
।
Thursday, October 15, 2009
বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি মার্কেটপ্লেস তৈরির পরিকল্পনা
Posted by Unknownইদানিংকালে আমাদের দেশে ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেকেরই, বিশেষ করে তরুনদের যথেষ্ঠ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজের প্রতিভাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না। বেশিরভাগই দেখা যায় গুগল এ্যাডসেন্স বা নেটবাক্স ইত্যাদি নিয়ে খুব মাথা ঘামান। ব্লগার বা এই জাতীয় ফ্রি ব্লগিং সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করে, দুএকটা পোস্ট দিয়ে তাতে মূলত মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হয়, যা সত্যি দৃষ্টিকটূ লাগে। অনেকে আবার দেখা যায় অন্যের সাইট থেকে লেখা কপি/পেস্ট করে চালিয়ে দেয়। আমার সাইটের আর্টিকেলগুলো যে আমি কত অসংখ্য সাইটে কপি হতে দেখেছি তার হিসেব নেই। প্রকৃতপক্ষে এগুলো নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাই নেই। আমার মূল বক্তব্য হচ্ছে এইসব কাজ করে তরুণরা শুধুমাত্র তাদের মূল্যবান সময়টুকুই অপচয় করছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা যে কতটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার তা মনে হয় বেশিরভাগই জানেন না। হাতেগোণা কয়েকজন হয়ত সফলতা পেতে পারেন, তবে বেশিরভাগের কাছেই তা বোধগম্য হয়ে উঠে না। সত্যি বলতে কি এধরনের কাজে কিছুটা পড়ালেখারও প্রয়োজন রয়েছে, এই যেমন SEO (Search Engine Optimization), Internet Marketing ইত্যাদি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়েই তবে এগুলো শুরু করা উচিত।
সে যাই হোক, এবার কাজের কথায় আসি। অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশীদের জন্য একটি মার্কেটপ্লেস চালু করার জন্য। আমিও ঠিক এরকম একটি সাইট চালু করার কথা অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম। সেই ধারণা থেকে একটি মার্কেটপ্লেস তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছি। মার্কেটপ্লেসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হবে নিম্নরূপ:
এখন প্রশ্ন হল, কেন শুধুমাত্র গ্রাফিক্সের জন্য মার্কেটপ্লেস তৈরির চিন্তা করছি? তার কারণ হল নতুন নতুন ওয়েবসাইটের আগমণের সাথে সাথে এই ধরনের কাজের চাহিদা দিন দিন শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে।
পরবর্তী প্রশ্ন হল, মার্কেটপ্লেসকে জনপ্রিয় করে তুলতে বাংলাদেশী ভাল ডিজাইনার কোথায় পাওয়া যাবে, আর যারা ডিজাইন জানেন না তাদের জন্য কি ব্যবস্থা? সেই লক্ষ্যে আমি একটি সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা করছি। প্রথম অবস্থায় আমার ইচ্ছে হল, নতুনদেরকে ৩ থেকে ৬ মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা। প্রশিক্ষণ দেয়া হবে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অর্থাৎ যে কেউ নিজের ঘরে বসে প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করতে পারবে। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে ৫০ বা ১০০ জনকে নিয়ে মার্কেটপ্লেসটি যাত্রা করা হবে।
প্রশিক্ষণ ওয়েবসাইটটি নিয়ে আমার আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, এইপ্রশিক্ষণ ওয়েবসাইটে আপনি কি কি ফিচার আশা করছেন? আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করেই ওয়েবসাইটটি তৈরি শুরু করে দিব।
সর্বশেষ তথ্য: ৭ই সেপ্টেম্বর ২০০৯ ইং
ডিজাইনারদের জন্য প্রশিক্ষণ সাইটের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমার টিম সর্বাত্বক চেষ্টা করছে যাতে এই মাসের মধ্য সাইটটির Beta ভার্সন প্রকাশ করা যায়। ওয়েবসাইটটি বাংলা এবং ইংরেজী উভয় ভাষাতে তৈরি করা হচ্ছে। নিচে সাইটটির একটি অংশের স্ক্রীনশট দেয়া হল।
0 comments Labels: ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
ওয়েবসাইট ডিজাইনিং - পেশা হিসেবে অসাধারণ
Posted by Unknownআমি মূলত একজন ওয়েবসাইট প্রোগ্রামার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ডিজাইন বা টেম্পলেট, ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেয়ে থাকি। একটি টেম্পলেটের সাথে প্রোগ্রামিংকে যুক্ত করার জন্য প্রায় সময় ফটোশপের স্লাইসিং টুল নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হয়। সেই সুবাদে ফটোশপ একটু আধটু জানি। যেসব ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টেম্পলেট পাওয়া যায় না তাদের সান্ত্বনা দেবার জন্য মাঝে মধ্যে নিজেই টেম্পলেট তৈরি করা শুরু করে দেই। এতে বেশিরভাগ সময় কাজ হয়। তবে সত্যি বলতে কি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর প্রতি আমার এক ধরনের ঝোঁক সবসময় রয়েছে। কাজের চাপে খুব একটা সময় দিতে পারি না, তবে সুযোগ পেলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর সাইটে ঘোরাঘুরি করি।
একটা বিষয় আমি খেয়াল করে দেখলাম, আমাদের দেশে যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে বেশি মাথা অল্প খাটিয়ে কম কষ্টে আয় করা। প্রকৃতপক্ষে একটি ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যে কতটা কঠিন তা আমার অজানা নয়। এক একটি প্রজেক্টে ১০০ জনের উপর বিড করে। তার উপরে এই ধরনের কাজ খুবই বিরক্তিকর এবং কষ্টের তুলনায় আয় অত্যন্ত কম। সর্বোপরি এধরনের কাজে সৃজনশীলতার ছিঁটেফোটাও নেই।
আমি জানি, অনেকেই বলবেন সবাইতো আর প্রোগ্রামার হতে পারবেন না। একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হবার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স বা এই ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বা সময় অনেকেরই থাকবে না। তাহলে একজন নন-টেকনিকাল ব্যক্তি কি একজন প্রোগ্রামারের সমান বা তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারবে না? আমি বলব, অবশ্যই পারবেন। এই বিষয়ে আমি আমার সাইটে বিভিন্ন লেখায় বিভিন্নভাবে উল্লেখ বলেছি। কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটা বেশিরভাগ নতুন ফ্রিল্যান্সাররাই খেয়াল করেন না, অথবা সেই বিষয়ে আগ্রহ পান না।
কোন সেই বিষয়? ওয়েবসাইট ডিজাইনিং। তবে শুরুতেই বলে নেই, এই পেশায় প্রথম অবস্থায় যথেষ্ঠ শ্রম দিতে হবে এবং অবশ্যই নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এই দুই ক্ষমতা থাকলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ আপনি ভাল করতে পারবেন। ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই ডিজাইনিং শেখা সম্ভব। Photoshop Tutorial লিখে গুগলে সার্চ দিলে হাজারটা ওয়েবসাইট পাবেন। ধৈর্য্য ধরে শিখতে পারলে কখনও কাজের অভাব হবে না।
ধরা যাক আপনি কয়েক মাস চেষ্টার ফলে একজন দক্ষ ডিজাইনার হতে পেরেছেন। এখন আপনার ডিজাইন কিনবে কে? এর উত্তর হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটগুলো। কষ্ট করে ওইসব সাইটে বিড করা শুরু করে দিন। আশা করি খুব শীঘ্রি আপনি বিড জিততে পারবেন।
আর যদি বিড করে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে থাকেন, তাহলেও নিরাশ হবেন না। আজ আমি আপনাদেরকে একটি ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যেখানে কোন বিড করতে হয় না। যেখানে ক্লায়েন্টের কোন চাহিদা নেই। আপনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে যাবেন আর অনবরত আয় হতে থাকবে। সাইটি হচ্ছে - GraphicRiver.net ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই সাইটে আপনাকে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের টেম্পলেট তৈরি করতে হবে না। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স যেমন বাটন, ব্যানার, বিভিন্ন ধরনের টেবিল, ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি তৈরি করে জমা দিতে পারবেন। ডিজাইন জমা দেবার পর ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে আপনার ডিজাইনটি মানসম্মত অথবা অন্য কারো ডিজাইন অনুকরণ করে তৈরি করা হয়েছে কিনা। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে তারাই ডিজাইনটির একটি মূল্য নির্ধারণ করে দিবে যা ১ ডলার থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে প্রথম অবস্থায় ৪০% অর্থ ডিজাইনারকে দেয়া হবে।
মূল্য শুনে মন খারাপ করবেন না, আসল কথা এখনও বলা হয় নি। এই সাইটি একটি অনলাইন শপ বা ইকমার্স সাইটের মত। অর্থাৎ একটি ডিজাইন একের অধিক ক্লায়েন্ট কিনতে পারে। এক একটি ভাল ডিজাইন গড়ে ৫০ বার বা তার চেয়ে বিক্রি হয়। আর সময়ের সাথে বিক্রি বাড়তেই থাকে। ধরা যাক, আপনার তৈরিকৃত একটি ব্যানারের মূল্য ১ ডলার নির্ধারণ করা হল অর্থাৎ প্রতিবার বিক্রি হলে আপনি পাবেন ০.৪০ ডলার। একটি ব্যানার তৈরি করতে ১ দিনের বেশি লাগার কথা নয়। তাহলে মাসে যদি ৫০ বার ব্যানারটি বিক্রি হয় তাহলে ওই ১ দিনের কাজের জন্য আপনি মাসে আয় করছেন ২০ ডলার। এভাবে প্রতিদিন যদি অন্তত একটি ভাল ডিজাইন তৈরি করতে পারেন তাহলে বিষয়টা দাড়াচ্ছে ৩০x২০=৬০০ ডলার। আমি কি বেশি বলে ফেললাম !!!
ঠিক আছে, তাহলে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখি। চলুন দেখা যাক আমি কিছু বিক্রি করতে পারি কি না। আজকে (১৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে) আমি একটি ডিজাইন "গ্রাফিক রিভার" সাইটে জমা দিয়েছি। এটি একটি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার টেবিল। তৈরি করতে আমার মত অদক্ষ ডিজাইনারের বিকেল থেকে রাত অবধি সময় লেগেছে। সাইটের কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটির জন্য ১ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমার প্রথম ডিজাইনটি যে তারা গ্রহণ করেছে তাতেই আমি খুশি। নিচের লিংক থেকে আমার কাজটি দেখতে পাবেন -
http://graphicriver.net/item/web-pricing-table/54601?ref=zchowdhury
চলুন দেখা যাক, ডিজাইনটি শেষ পর্যন্ত কতবার বিক্রি হয়।
0 comments Labels: ওয়েবসাইট ডিজাইনিং
গেমস তৈরি করে আয়
Posted by Unknownমোচিমিডিয়াতে জমা দেয়া গেমে কেবলমাত্র মোচি কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞাপন নয়, ইচ্ছে করল আপনি নিজে স্পন্সর জোগাড় করে অতিরিক্ত আরো অর্থ আয় করতে পারেন। স্পন্সর পাওয়া যায় এরকম একটি ভাল ওয়েবসাইট হচ্ছেwww.FlashGameLicense.com । মোচিমিডিয়াতে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে যাতে যেকোন ধরনের বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। ওয়েবসাইটে একবার রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে আপনি একই সাথে একজন ডেভেলপার, পাবলিশার এবং একজন বিজ্ঞাপনদাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন। পাবলিশার সার্ভিসের মাধ্যমে মোচিমিডিয়া ওয়েবসাইটের গেমগুলোকে নিয়ে আপনি একটি স্বতন্ত্র গেমিং সাইট তৈরি করতে পারবেন। আপনার সাইট থেকে গেম খেলা হলে বিজ্ঞাপনদাতা কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ১০% আপনাকে দেয়া হবে। গেম তৈরি করে অথবা নিজের ওয়েবসাইটে গেম পাবলিশ করে মোট আয় ৩০ ডলার বা তার চেয়ে অধিক হলে মানিবুকারস, চেক বা পেপালের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে এনিমেশন, ওয়েবসাইট, ব্যানার, দ্বিমাত্রিক গেমস ইত্যাদি তৈরির জন্য ফ্লাশ (Flash) অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার। আমাদের দেশেও প্রচুর প্রফেশনাল ফ্লাশ ডেভেলপার রয়েছেন। আউটসোর্সিং এর জগতে ফ্লাশের রয়েছে বেশ ভাল কদর। ফ্লাশ দিয়ে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইটের দাম সাধারণ ওয়েবসাইট থেকে অনেক বেশি হয়ে থাকে। ফ্লাশ দিয়ে একদিকে যেরকম নজরকাড়া ডিজাইন তৈরি করা যায়, অন্যদিকে এর একশনস্ক্রিপ্ট দিয়ে শক্তিশালী ও উন্নতমানের সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব। ফ্লাশ দিয়ে তৈরি করা গেমগুলো যেকোন বয়সের মানুষই পছন্দ করে। ফ্লাশ দিয়ে গেমস তৈরিতে পারদর্শী হলে এটি হতে পারে ঘরে বসে আয়ের অন্যতম মাধ্যম। এই সুযোগটি করে দিচ্ছে মোচিমিডিয়া (www.MochiMedia.com) নামক একটি চমৎকার ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্ক, যাদের রয়েছে ১৪ হাজারের উপর ফ্লাশ গেমসের বিশাল সংগ্রহ। যা ৩০ হাজার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১০ কোটি গেমারের কাছে ডেভেলপারের তৈরিকৃত গেমকে বিনামূল্যে পৌছে দেয়। তার বিনিময়ে গেমে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়, যা থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ গেম ডেভেলপারকে দেয়া হয়।
তাহলে দেখে নেয়া যাক মোচিমিডিয়া ওয়েবসাইটটি কিভাবে কাজ করে। ওয়েবসাইটে তিন ধরনের ব্যবহাকারী রয়েছে - গেম ডেভেলপার, গেম প্রকাশক এবং বিজ্ঞাপনদাতা। প্রথমে গেম ডেভেলপার একটি গেম তৈরি করে ওয়েবসাইটে জমা দেয়। গেম প্রকাশকরা গেমটিকে মোচিমিডিয়া থেকে ডাউনলোড করে তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেই সকল ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারী গেমাররা যখন গেমটি খেলে তখন গেমের মধ্যে একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। প্রত্যেকবার বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবার জন্য বিজ্ঞাপনদাতা মোচিমিডিয়াকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে। মোচিমিডিয়া গেম ডেভেলপারকে সেই অর্থের ৫০% প্রদান করে। এভাবে যে কেউ প্রত্যেকবার গেম খেলার সাথে সাথে গেম ডেভেলপার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় করতে থাকে। এই আয়ের পরিমাণটি কত সেই তথ্য নির্দিষ্ট করে সাইটে দেয়া নেই। এটি নির্ভর করে গেমে যে বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হচ্ছে তার উপর। অন্যান্য ডেভেলপারদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, গড়ে প্রতি ১ হাজার বার গেম খেলা হলে গেম ডেভেলপার ১ ডলার আয় করে। সেই হিসেবে মোচিমিডার ৩০ হাজার পাবলিশারের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার পাবলিশারের ওয়েবসাইটে যদি ১ বার করেও প্রতিদিন আপনার গেম খেলা হয় তাহলে একটি গেম থেকেই প্রতিদিন ১০ ডলার করে আয় করা সম্ভব। গেম পাবলিশারদের মধ্যে অনেকগুলো বিখ্যাত ওয়েবসাইট। যাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে Hi5, MindJolt, GamePro এবং AOL এর মত বিখ্যাত সাইটগুলো। এইসব সাইটে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ ব্যবহারকারী ভিজিট করে। সেই হিসেবে একটি উন্নতমানের গেম তৈরি করতে পারলে ধারণার চেয়েও বেশি পরিমাণে আয় করা সম্ভব।
মোচিমিডিয়ায় গেম ডেভেলপারদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস রয়েছে, যা গেম তৈরি করার সময় গেমে এপিআই বা একধরনের কোড যুক্ত করে পাওয়া যায়। এপিআইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে -১. Ads API:
কেবলমাত্র একটি লাইনের বিজ্ঞাপনের এপিআই কোড যোগ করে যে কোন গেমকে আয়ের উৎসে পরিণত করা যায়। বিজ্ঞাপনকে একটি গেমের যে কোন তিনটি স্থানে যোগ করতে পারবেন - গেম শুরু হবার পূর্বে, গেমের দুটি লেভেলে মধ্যে অথবা খেলা চলাকালীন সময়ে একটি লিংক যুক্ত করে। বিজ্ঞাপনকে নিজের ইচ্ছেমত নিয়ন্ত্রণ করা যায়, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটি কখন দেখাবে আর কখন দেখাবে না তাও ঠিক করে দেয়া যায়। বিজ্ঞাপণগুলো Cost per thousand impression (CPM), Cost per Click (CPC) এবং Cost per Acquisition (CPA) পদ্ধতিতে প্রদর্শন করা হয়। CPC বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ডেভেলপারকে অর্থ প্রদান করা হয়। তবে বেশিরভাগ সময় CPM পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয়, অর্থাৎ প্রতিবার বিজ্ঞাপন দেখানোর সাথে সাথে গেম ডেভেলপার আয় করতে থাকে।
২. Analytics API:
মোচি এনালাইটিক এপিআই হচ্ছে একটি ফ্রি সার্ভিস যা দিয়ে একজন ফ্লাশ ডেভেলপার তার তৈরিকৃত গেমসকে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এই সার্ভিসের মাধ্যমে গেমটি কতবার খেলা হয়েছে, কোন কোন সাইটে খেলা হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য সহজেই জানা যায়। এই সার্ভিসটি ফ্লাশ গেমস ছাড়াও যে কোন ধরনের ফ্লাশ কন্টেন্ট বা ফাইলকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য মোচিমিডিয়া সাইট থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। যে কোন ফ্লাশ ফাইলের সাথে একটি একশনস্ক্রিপ্ট কোড যুক্ত করে ফাইলকে পর্যবেক্ষণের উপযোগী করতে পারবেন।
৩. Coins API:
মোচি কয়েন এপিআই ব্যবহার করে ফ্লাশ গেম ডেভেলপারা একটি গেম থেকে অতিরিক্ত আরো অর্থ আয় করতে পারে। এই পদ্ধতিতে একটি গেমের মধ্যে বিভিন্ন লেভেল আনলক করা, গেমের মধ্যে বিভিন্ন অতিরিক্ত সরঞ্জাম, অস্ত্র, চিটকোড ইত্যাদি বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। এগুলো বিক্রির জন্য মোচিমিডিয়া বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতি প্রদান করে থাকে। প্রতিটি আইটেম বিক্রির ৬০% অর্থ গেম ডেভেলপারকে দেয়া হয়।
৪. Scores API:
মোচি স্কোর এপিআই এর মাধ্যমে একটি গেমে সর্বোচ্চ স্কোর করা খেলোয়াড়দেরকে প্রদর্শন করা যায়। ফলে অধিক স্কোর করার নেশায় গেমাররা পুনরায় আপনার গেম খেলবে। গেমের মধ্যে স্কোরবোর্ড যোগ করাও অত্যন্ত সহজ, মাত্র কয়েক লাইনের কোড যোগ করলেই পাওয়া যায়। স্কোরবোর্ডকে গেমের ডিজাইনের সাথে মিল রেখে ইচ্ছেমত পরিরর্তন করা যায়। স্কোরবোর্ডকে ফেইসবুকের সাথে যুক্ত করা যায়, ফলে গেমাররা ফেইসবুকে তাদের বন্ধুদেরকে গেম খেলায় আমন্ত্রণ জানাতে পারে।
৫. Live Updates:
মোচি লাইভ আপডেট সার্ভিসের মাধ্যমে গেমের সর্বশেষ ভার্সনকে মূহুর্তের মধ্যেই সকল সাইটে ছড়িয়ে দেয়া যায়। ধরা যাক, আপনার গেমটি ২০ হাজার সাইটে খেলা হচ্ছে। সেই মূহুর্তে গেমে একটি বাগ বা ভুল ধরা পড়ল। ভুলটি ঠিক করে মোচিমিডিয়া সাইটে জমা দিলে লাইভ আপডেট সার্ভিসের মাধ্যমে তা সকল সাইটে আপডেট হয়ে যাবে। একই পদ্ধতিতে গেমের ভার্সনকে আপডেট ও নতুন ফিচার যুক্ত করা যাবে।
আমাদের দেশে অনেকে মোচিমিডিয়ার জন্য গেম তৈরি করে আয় করছেন। এরকম একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে "মুক্ত সফটওয়্যার"www.MuktoSoft.com । আবার অনেকে পাবলিশার হিসেবে মোচিমিডিয়ার গেমগুলোকে নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। আমাদের দেশী ওয়েবসাইট নির্মাতাদের তৈরি এরকম একটি সাইট হচ্ছে www.StreetGamers.net । স্ট্রীট গেমারস ওয়েবসাইটটি এখনও ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে। তবে এখনই এই ওয়েবসাইট থেকে মোচিমিডিয়া প্রদত্ত গেমগুলো বিনামূল্যে খেলা যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে RSS Feed এর মাধ্যমে মোচিমিডিয়ার গেমগুলোকে স্ট্রীট গেমারস সাইটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদিন যুক্ত করা হয়। আর এই কাজের জন্য PHP স্ক্রিপ্ট মোচিমিডিয়া ওয়েবসাইট থেকেই সংগ্রহ করা যায়।
গ্রাফিক রিভার
Posted by Unknownকয়েক মাস পূর্বে আপনাদেরকে পাঁচটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে গঠিতএনভাটো (Envato) নামক একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। সেই লেখাতে ThemeForest.net নামক একটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। যারা ওই লেখাটি পড়েননি তাদের জন্য বলছি, থিম ফরেস্ট মার্কেটপ্লেসে একজন ডিজাইনার ওয়েবসাইটের টেম্পলেট বা পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন বিক্রি করে আয় করতে পারেন। যারা ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ দক্ষ তাদের জন্য থিম ফরেস্ট হতে পারে একটি চমৎকার আয়ের ক্ষেত্র। কিন্তু ডিজাইনিং এ নতুনরা থিম ফরেস্ট সাইটে খুব একটি সুবিধা করতে পারবেন না। এই সাইটে অনেক বিচার বিবেচনা করে একটি ডিজাইনকে সাইটে প্রকাশের অনুমতি দেয়া হয়। তবে নতুনদের হতাশ হবার কিছু নেই, তাদের জন্য এনভাটোর রয়েছে আরেকটি চমৎকার মার্কেটপ্লেস - গ্রাফিক রিভার (www.GraphicRiver.net)। এই গ্রাফিক রিভারের আদ্যোপান্ত নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।
গ্রাফিক রিভার সাইটটি দেখতে হুবহু থিম ফরেস্ট সাইটের মত। প্রকৃতপক্ষে এনভাটোর সকল মার্কেটপ্লেসের বাহ্যিক দিক এবং আভ্যন্তরীণ নিয়ম-কানুন প্রায় একই রকম। পাঁচটি মার্কেটপ্লেসের যে কোন একটিতে রেজিষ্ট্রেশন করে সবগুলো সাইটের মেম্বার হওয়া যায়। গ্রাফিক রিভার মার্কেটপ্লেসটিকে নতুনদের জন্য উপযোগী বলছি তার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। এখানে আপনাকে সাইটের সম্পূর্ণ টেম্পলেট ডিজাইন করতে হবে না, বরং একটি সাইটের বিভিন্ন গ্রাফিক্স আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন। গ্রাফিক্স বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে - ওয়েবসাইটের ব্যাকগ্রাউন্ড, ব্যানার, বাটন, আইকন, রেজিষ্ট্রেশন ও লগইন ফরম, বিজনেস কার্ড, নিউজলেটার ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন।
একটি ডিজাইন তৈরি করে সাইটে জমা দেবার পর সাইটের কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটি প্রথমে যাচাই বাছাই করে দেখে নেয় কাজটি মানসম্মত কিনা। ডিজাইনটি সাইটের নির্দেশমত তৈরি করা হলে, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ডিজাইনটির একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়। ডিজাইনের ধরণ ও কাজের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে দাম সর্বনিম্ন ১ ডলার থেকে শুরু করে ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এরপর ডিজাইন বিক্রির ৪০% থেকে ৭০% অর্থ ডিজাইনারকে দেয়া হয়। নতুনদেরকে ৪০% অর্থ দেয়া হয় যা বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে ৭০% এ উত্তীর্ণ হয়। প্রথম অবস্থায় দাম শুনতে কম মনে হলেও আসলে একটি ডিজাইন একাধিক ক্লায়েন্টের কাছে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। তাই ১ ডলার মূল্যের একটি সামান্য ব্যানার যদি ৪০ থেকে ৫০ বার বিক্রি হয় তাহলে পরিশেষে মোট দাম নেহায়েত কম হয় না। এই ধরনের ছোটখাট কাজ করতে একজন নতুন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের এক দিনের বেশি লাগার কথা নয়।সাইটের নেভিগেশন বা ব্যবহার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ, সরল এবং পরিকল্পিতভাবে সাজানো। সাইটের বামদিকের কলামের শুরুতেই রয়েছে বিভিন্ন বিভাগ যাতে ক্লিক করে ওই বিভাগের সকল ডিজাইন দেখা ও কেনা যায়। এখানে মূল বিভাগগুলো হচ্ছে - Graphics, Design Templates, Texture, Vectors, Add-ons, Isolated Objects এবং Icons । Graphics বিভাগে রয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড, বাটন, ফরম, ব্যানার এবং একটি ওয়েবসাইটকে সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ। Design Templates বিভাগে রয়েছে বিজনেস কার্ড, একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহণকারী স্টেশনারী উপকরণের টেম্পলেট, ফ্লাইয়ার, রেজ্যুমে, ব্রুশিয়র, নিউজলেটার ইত্যাদি। Texture বিভাগে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের বস্তু যেমন কাঠ, কাগজ, পাথর, প্রকৃতি, কনক্রিট, মেটাল, তরলবস্তু, ফেব্রিক ইত্যাদির ছবি। এই ছবিগুলো সাধারণত একটি ডিজাইন তৈরি করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেইজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Vector বিভাগে পাওয়া যায় কার্টুন ক্যারেক্টার ও বিভিন্ন বস্তুর ভেক্টর ছবি যা সাধারণত এডোব ইল্যাস্ট্রেটর দিয়ে তৈরি করা হয়। Add-ons বিভাগে রয়েছে ফটোশপ এবং ইল্যাস্ট্রেটরের বিভিন্ন এ্যাকশন, ব্রাশ, স্টাইল, শেপ, টেক্সচার এবং পেটার্নের কালেকশন। Isolated Objects বিভাগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বস্তুর গ্রাফিক্স পাওয়া যায়। সর্বশেষ Icon বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নজরকাড়া আইকনের সমাহার যা কম্পিউটারের ডেস্কটপ সাজাতে বা একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইনকে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহৃত হয়। মোট কথা, গ্রাফিক রিভার সাইটের এই অসংখ্য বিভাগের মধ্য থেকে নিজের ইচ্ছেমত যেকোন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে বিক্রি করা যায়।
ওয়েবসাইটের বামদিকের কলামে বিভাগের পর আরও যেসকল উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে সেগুলো হল - Author Program, Referral Program, Asset Library, Forums এবং Blog । ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করার পূর্বে Author Program অংশে সাইটের নিয়ম কানুন ভালভাবে জেনে নিতে হবে। তারপর একটি ছোটখাট কুইজে অংশগ্রহণ করে তাতে উত্তীর্ণ হতে হবে। কুইজের উত্তরগুলো "হ্যাঁ" এবং "না" এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া সম্ভব। ডিজাইনার না হয়েও এই সাইট থেকে আয় করা সম্ভব, আর তা হচ্ছে Referral Program এর মাধ্যমে। এনভাটো মার্কেটপ্লেসের পাঁচটি সাইটের যে কোন একটিতে একজন নতুন ক্রেতাকে নিয়ে আসলে, ওই ক্রেতা সর্বপ্রথম যে পরিমাণ অর্থ সাইটে ডিপোজিট বা জমা করবে তার ৩০% আপনি পাবেন। কোন ডিজাইন কেনার পূর্বে এই সাইটে সর্বনিম্ন ২০ ডলার ডিপোজিট করতে হয়। অর্থাৎ একজন নতুন ক্রেতার মাধ্যমে আপনি সর্বনিম্ন ৬ ডলার থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
একটি ডিজাইন তৈরি করার সময় ডিজাইনে যদি কোন ধরনের ছবি সংযোগের প্রয়োজন হয় তাহলে Asset Library থেকে তা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সাইটে কপিরাইটের নিয়মকানুন খুব কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হয়। তাই অন্য যে কোন সাইট থেকে ছবি সংগ্রহ করে তা ডিজাইনের সাথে সরাসরি সংযোগ করতে পারবেন না। এর জন্য হয় ছবিটি কিনতে হবে অথবা ছবির মালিকের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করতে হবে। তবে সবচেয়ে ঝামেলাবিহীণ হচ্ছে সাইটির এ্যাসেট লাইব্রেরী থেকে ছবি সংগ্রহ করা।
সাইটের নিয়মকানুন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য Forums অংশে নিয়মিত ভিজিট করুন। আর এনভাটোর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত ব্লগে পাবেন গ্রাফিক রিভার সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার খবর এবং প্রতিমাসে একটি গ্রাফিক্স বিনামূল্যে ডাউনলোডের সুযোগ। গ্রাফিক রিভার সাইটে এই মূহুর্তে আইকন তৈরির একটি প্রতিযোগীতা চলছে যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০০ ডলার করে পুরষ্কার দেয়া হবে।
ওয়েবসাইটে লগইন করার পর উপরের অংশে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক পাওয়া যায়, এগুলো হচ্ছে - Account, Bookmarks, Earning, Upload এবং Deposit । Account অংশটি আরো কয়েকটিভাগে বিভক্ত - Profile, Portfolio, Downloads, Earning, Statements এবং Edit । আপনার Profile এবং Portfolio অংশটি যেকোন মেম্বার দেখতে পারবে। Profile অংশে আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখবেন যাতে ক্লায়েন্ট আপনার ডিজাইনের পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল ধারণা পেতে পারে। আপনি যে সকল ডিজাইন তৈরি করবেন তা Portfolio অংশে প্রদর্শন করা হবে। আপনি যদি অন্য কারো ডিজাইন কিনে থাকেন তাহলে Download অংশ থেকে তা ডাউনলোড করতে পারবেন। Earning অংশে কোন মাসে কত আয় করলেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেখতে পাবেন এবং এই অংশ থেকে আয়কৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। Statement অংশে সাইট থেকে আপনার আয়/ব্যয়ের সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন।
ডিজাইন তৈরি করার নিয়ম:
গ্রাফিক রিভারের জন্য ডিজাইন তৈরি করার সময় অনেকগুলো বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটি গ্রহণ করবে না। ফটোশপ বা ইল্যাস্ট্রেটরে কাজ করার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল -
ডিজাইন জমা দেবার নিয়ম:
ডিজাইন তৈরি করার পর তা জমা দিতে সাইটের উপরের অংশ থেকে Upload নামক লিংকে ক্লিক করুন। ডিজাইন জমা দেবার পূর্বে কুইজে অবশ্যই উত্ত্বীর্ণ হতে হবে। এরপর Upload অংশে প্রত্যেকটি বিভাগের জন্য Instructions, New BETA Upload এবং Old Style Upload নামক তিন ধরনের বাটন দেখতে পাবেন। প্রথমে Instruction অংশটি ভালভাবে পড়ে নিন এবং New BETA Upload বাটনে ক্লিক করে আপলোড শুরু করুন। এই অংশে আপলোড করতে সমস্যা হলে Old Style Upload বাটনে ক্লিক করুন। Upload করার নিয়মগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ -
সবশেষে আপলোড বাটনে ক্লিক করে কাজটি জমা দিন। জমা দেবার পর আপনার ডিজাইনটি কর্তৃপক্ষের লিস্টে কততম স্থানে রয়েছে তা দেখতে পাবেন। আপলোড করার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ডিজাইনটি যাচাই বাছাই করা হবে। ডিজাইনটি গ্রহণ বা বাতিল হলে তা আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
আয়ের অর্থ উত্তোলনের জন্য এই সাইটে তিনটি পদ্ধতি রয়েছে - Paypal, Moneybookers এবং International Money Transfer (SWIFT) । নূন্যতম আয় ৫০ ডলার হলেই Paypal ও Moneybookers দিয়ে উত্তোলন করতে পারবেন। তৃতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে নূন্যতম আয় হতে হবে ৫০০ ডলার।
গ্রাফিক রিভার তথা এনভাটো মার্কেটপ্লেসে নিয়মকানুন কড়াকড়িভাবে মেনে চলার কারণে এই সাইটগুলোতে সবসময় উন্নতমানের ডিজাইন পাওয়া যায়। আর হয়ত একারনেই ক্রেতা এবং বিক্রেতা মিলে মার্কেটপ্লেসে দুই লক্ষের উপর ব্যবহারকারী রয়েছে। একটি ভাল ডিজাইন তৈরি করতে পারলে তার ফলাফল আপনি সাথে সাথেই পাবেন। মার্কেটপ্লেসে এমন অনেক ডিজাইনার রয়েছেন যাদের ডিজাইন জমা দেবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি একশ ছাড়িয়ে যায়। আর ডিজাইন শেখার অন্যতম উপায় হচ্ছে অন্যের ডিজাইন পর্যবেক্ষন করা। অন্য আরেকজনের ডিজাইন যদি দেখে দেখে হুবহু তৈরি করতে পারেন তাহলে ধরে নিবেন দক্ষ ডিজাইনার হতে খুব বেশি দিন বাকি নেই। এভাবে চর্চা করতে থাকলে ডিজাইনের নতুন নতুন আইডিয়া স্বাভাবিকভাবেই পেয়ে যাবেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)